Literature:

Select from the List for details

ডা: নীহাররঞ্জন গুপ্ত: (Read in English)

Nihar Ranjan Gupta

নীহাররঞ্জন গুপ্ত ছিলেন ভারতীয় বাঙালি লেখক। তবে তিনি জন্মগতভাবে একজন বাংলাদেশি। তার মূল পেশায় তিনি ছিলেন একজন চিকিৎসক। প্রায় দুই শতাধিক বইয়ের লেখক নীহাররঞ্জন গুপ্তের লেখার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো রহস্য। নীহাররঞ্জন গুপ্ত বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র কিরীটি রায়ের স্রষ্টা হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশে স্মরণীয় হয়ে আছেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর সপরিবারে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

জন্ম:

ডা: নীহাররঞ্জন গুপ্ত ১৯১১ সালের ৬ জুন যশোর জেলার লোহাগড়া উপজেলার ইটনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সত্যরঞ্জন গুপ্ত এবং মাতার নাম লবঙ্গলতা দেবী।

পড়াশোনা:

নীহাররঞ্জন গুপ্তের পিতার প্রায়ই চাকরি স্থল বদলি হতো। সে কারণে নীহাররঞ্জন গুপ্তকে একাধিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে হয়। ১৯৩০ কোন্নগর উচ্চ বিদ্যালয় হতে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে আই.এস.সি ডিগ্রী অর্জন করেন। কলকাতায় কারমাইকেল মেডিকেল কলেজ থেকে তিনি ডাক্তারি পাশ করেন। এছাড়া তিনি লন্ডন থেকে ডাক্তারিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন।

কর্মজীবন:

জীবনের প্রথম দিকে নীহাররঞ্জন গুপ্ত একজন সৈনিক ছিলেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং মেজর পদে উন্নীত হন। যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষ ডিগ্রী অর্জন শেষে নীহাররঞ্জন গুপ্ত কলকাতা মেডিকেল কলেজে ডাক্তার হিসেবে যোগ দেন।

সাহিত্য সাধনা:

নীহাররঞ্জন গুপ্তের বয়স যখন ১৮ (আঠারো) তখন তার প্রথম উপন্যাস “রাজকুমার” রচনা করেন। তবে ছোটবেলা থেকেই নীহাররঞ্জন গুপ্তের স্বপ্ন ছিলো তিনি লেখক হবেন। একসময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশীর্বাদ পাওয়ার সৌভাগ্যও হয় তার। বাংলা সাহিত্যে রহস্য কাহিনী রচনার ক্ষেত্রে নীহাররঞ্জন গুপ্ত ছিলেন অপ্রতীদ্বন্ধী একজন লেখক।

উল্লেখযোগ্য বইগুলো:

  • কালোভ্রমর
  • মৃত্যুবাণ
  • কালনাগ
  • উল্কা
  • উত্তরফাল্গুনী
  • হাসপাতাল
  • কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী
  • লালুভুলু
  • রাতের রজনীগন্ধা
  • কিরীটি অমনিবাস
  • অপারেশন

মৃত্যু:

নীহার রঞ্জন গুপ্ত ১৯৮৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।